Skip to main content

ফেব্রুয়ারিতে কেন মাত্র ২৮ দিন?

 


ফেব্রুয়ারিতে কেন মাত্র ২৮ দিন?

স্থান: রাজশাহী, বাংলাদেশ, সময়: ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি, সকাল ৮:৪০ 👤 মোঃ সৌরভ ইসলাম


আমরা যে ক্যালেন্ডার ব্যবহার করি তাতে বছরের বেশিরভাগ মাসে ৩০ বা ৩১ দিন থাকে। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাস আলাদা, এতে মাত্র ২৮ দিন (অধিবর্ষে ২৯ দিন)।

ফেব্রুয়ারিতে কেন মাত্র ২৮ দিন, এর পেছনে রয়েছে ঐতিহাসিক ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের কারণ।

ঐতিহাসিক কারণ:

  • প্রাচীন রোমানরা ৩০৪ দিনের বছর ধারণা করত এবং মার্চ মাসকে বছরের প্রথম মাস হিসেবে গণ্য করত।

  • রাজা নুমা পম্পিলিউস ৭১৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাস যোগ করেন।

  • তখন ফেব্রুয়ারি ছিল বছরের শেষ মাস এবং ৩০ দিনের।

  • বিশ্বাস করা হয়, বিজোড় সংখ্যাকে 'অশুভ' মনে করা হত, তাই ফেব্রুয়ারিকে ২৮ দিনের করা হয়।

জ্যোতির্বিজ্ঞানের কারণ:

  • পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে ৩৬৫.২৪২২ দিন সময় নেয়।

  • ৩৬৫ দিনের বছর ধারণা করলে প্রতি বছর ০.২৪২২ দিন অতিরিক্ত থেকে যায়।

  • এই অতিরিক্ত দিনগুলো ৪ বছর পর একত্রিত করে ফেব্রুয়ারিতে ২৯ দিন যোগ করা হয়।

ব্যবহার:

  • গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ক্যালেন্ডার। এটি বেশিরভাগ দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা, এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ব্যবহৃত হয়।

  • বাংলাদেশে সরকারিভাবে ইংরেজি ক্যালেন্ডার ব্যবহার করা হয়। তবে, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বাংলা সন (বঙ্গাব্দ) ব্যবহার করা হয়।

অন্যান্য তথ্য:

  • ইংরেজি ক্যালেন্ডারে মাসগুলোর নাম রোমান দেবদেবী ও রাজাদের নামে নামকরণ করা হয়েছে।

  • ইংরেজি সপ্তাহের দিনগুলোর নাম গ্রহ ও দেবদেবীদের নামে নামকরণ করা হয়েছে।

ফেব্রুয়ারিতে মাত্র ২৮ দিন থাকার পেছনে ঐতিহাসিক ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের কারণ একত্রিতভাবে ভূমিকা রেখেছে।

ক্যাটাগরি:

  • জ্ঞান-বিজ্ঞান

  • ইতিহাস

  • জ্যোতির্বিজ্ঞান

Comments

Popular posts from this blog

পানামা নদীতে একটি রহস্যময় প্রাণী দেখা গেছে। (লা ক্রিয়েচারা)

 পানামা নদীতে একটি রহস্যময় প্রাণী দেখা গেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। প্রাণীটিকে একটি বড়, বাদামী প্রাণী বলে বর্ণনা করা হয়েছে যা একটি কুমির বা ডলফিনের মতো দেখাচ্ছে। প্রাণীটিকে প্রথম দেখতে পান পানামার একটি স্থানীয় মৎস্যজীবী। তিনি জানান, তিনি নদীতে মাছ ধরার সময় প্রাণীটিকে দেখেছেন। প্রাণীটি ছিল প্রায় ৮ ফুট লম্বা এবং এর পিঠে একটি দীর্ঘ লেজ ছিল। স্থানীয়রা প্রাণীটিকে "লা ক্রিয়েচারা" (লা ক্রিয়েচারা) বলে ডাকছেন। তারা বিশ্বাস করেন যে এটি একটি নতুন প্রজাতির প্রাণী। পানামার সরকার প্রাণীটিকে চিহ্নিত করার জন্য একটি তদন্ত শুরু করেছে। তারা আশা করছেন যে এটি একটি নতুন প্রজাতির প্রাণী হতে পারে, তবে এটিও সম্ভব যে এটি একটি পরিচিত প্রজাতির একটি অজানা উপপ্রজাতি।

ডেথ স্পাইরাল বা পিঁপড়ার মৃত্যুর বৃত্ত।

 পিঁপড়ার মৃত্যুর বৃত্ত হল একটি প্রাকৃতিক ঘটনা যেখানে সেনাবাহিনীর পিঁপড়ারা ঘূর্ণায়মান বৃত্ত তৈরি করে এবং শেষ পর্যন্ত ক্লান্ত হয়ে মারা যেতে পারে। এটি একটি বিরল ঘটনা, তবে এটি বিভিন্ন সময়ে এবং বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেছে। পিঁপড়ার মৃত্যুর বৃত্ত গঠনের সঠিক কারণ অজানা। তবে, এটি বিশ্বাস করা হয় যে এটি ঘটে যখন পিঁপড়াগুলি তাদের ফেরোমন ট্র্যাক হারায় এবং একে অপরকে অনুসরণ করতে শুরু করে। এই বৃত্তটি সাধারণত "ডেথ স্পাইরাল" নামে পরিচিত কারণ পিঁপড়া শেষ পর্যন্ত ক্লান্ত হয়ে মারা যেতে পারে।

আইভি মাইক: প্রথম পারমাণবিক বোমা

 স্থান: এনুয়েটেক এটোল, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জস ময়: ১ নভেম্বর ১৯৫২, সকাল ৭:১৫ টার স্থানীয় সময় আইভি মাইক ছিল প্রথম পারমাণবিক বোমা যা একটি পূর্ণ-স্কেল পরীক্ষায় বিস্ফোরিত হয়েছিল। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা এনুয়েটেক এটোল, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জে পরিচালিত হয়েছিল। বোমাটি 10.4 মেগাটন TNT-এর সমান শক্তি বিস্ফোরিত করেছিল, যা টোকিওতে ফেলা বোমাগুলির চেয়ে প্রায় 1,000 গুণ বেশি শক্তিশালী ছিল। আইভি মাইকের বিস্ফোরণ একটি বিশাল মাশরুম মেঘ তৈরি করেছিল যা 50 মাইলের বেশি উচ্চতায় উঠেছিল। বিস্ফোরণের তাপমাত্রা 100 মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছিল। বিস্ফোরণের শব্দ 1,000 মাইল দূরে শোনা গিয়েছিল। আইভি মাইকের বিস্ফোরণ পারমাণবিক যুগে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছিল। এটি প্রমাণ করেছে যে পারমাণবিক শক্তিকে একটি কার্যকর অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।